মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার সাহারবাটি ইউনিয়ন ভূমি অফিসে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একটি দল আজ দুপুরে অভিযান চালায়। অভিযানে তহশিলদার জাকির হোসেনের পকেট থেকে ৩৬ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়, যা ঘুষের টাকা বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত করেছে দুদক।
তিন ঘণ্টাব্যাপী এই অভিযান পরিচালনা করেন দুদকের কুষ্টিয়া সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক বুলবুল হাসান রিয়াদ। তার সঙ্গে ছিলেন উপসহকারী পরিচালক সাইদুর রহমানসহ আরও কয়েকজন কর্মকর্তা।
দুদক কর্মকর্তারা জানান, তারা যথাযথ পরিচয়পত্র দেখিয়ে সরকারি দায়িত্ব পালনের জন্য অফিসে প্রবেশ করেন। কিন্তু এই সময় সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাদ্দাম হোসেন তদন্তে বারবার বাধা দেন। দুদক বলছে, একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তার উচিৎ ছিল সহযোগিতা করা, কিন্তু তিনি উল্টো সন্দেহ ও প্রশ্ন তুলে কার্যক্রমে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছেন।
সহকারী পরিচালক বুলবুল হাসান জানান, জাকির হোসেনের শরীর তল্লাশি করে তার বিভিন্ন পকেট থেকে থোকা থোকা করে মোট ৩৬ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। এই টাকা ঘুষ হিসেবে নেওয়া হয়েছে বলে তারা ধারণা করছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, সাহারবাটি ইউনিয়ন ভূমি অফিসে গেলে কোনো কাজ ঘুষ ছাড়া হয় না। নামজারি, জমাভাগ বা খাজনা দিতে গেলেও অতিরিক্ত টাকা না দিলে ফাইল এক চুলও নড়ে না।
একজন ভুক্তভোগী বলেন, “জমির কাজ করতে গিয়ে বারবার যেতে হয়েছে। টাকা না দিলে ফাইল পড়ে থাকে।”
একজন নারী বলেন, “২০০ টাকার কাজ করতে গিয়ে ২ হাজার টাকা দিয়ে এসেছি। সাধারণ মানুষ হিসেবে আমরা খুবই হয়রানির শিকার।”
অভিযানের সময় তহশিলদার জাকির হোসেনের মোবাইল ফোন বন্ধ ছিল এবং তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাদ্দাম হোসেন বলেন, “আমি শুধু তাদের পরিচয় নিশ্চিত হতে আইডি দেখতে চেয়েছিলাম। যেহেতু কোনো লিখিত অভিযোগ ছিল না, তাই জানতে চেয়েছি কেন টাকা জব্দ করা হলো।”
তবে দুদক বলছে, লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতেই অভিযান চালানো হয়েছে এবং টাকা জব্দের প্রমাণ রয়েছে।




