আজ গোপালগঞ্জে ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (NCP)-এর ‘জুলাই পদযাত্রা’ ঘিরে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় আওয়ামী লীগ এবং ছাত্রলীগের বাধার মুখে পড়ে সহিংসতা, অগ্নিসংযোগ ও পুলিশের গাড়িতে হামলার মতো ঘটনা ঘটেছে। সর্বশেষ, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে সেনাবাহিনীর সহায়তায় ট্যাংকে চেপে এলাকা ত্যাগ করেন NCP-এর শীর্ষ নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ ও নাহিদসহ অন্যান্য কেন্দ্রীয় নেতারা।
আজ সকাল থেকেই গোপালগঞ্জের মিউনিসিপাল পার্ক এলাকায় জড়ো হতে থাকে NCP-এর নেতা-কর্মীরা। দলটির দাবি ছিল, এই পদযাত্রার মাধ্যমে সরকারবিরোধী আন্দোলনে নতুন গতি আনা এবং দেশের নানা স্থানে সংগঠিত সহিংস ঘটনার প্রতিবাদ জানানো।
তবে সকাল ১০টার দিকে আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাকর্মীরা এবং ছাত্রলীগ মিছিলের রাস্তায় অবস্থান নিলে ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষায়, মিছিলের রাস্তায় বাধা দেওয়া এবং বক্তৃতার মঞ্চ ভাঙচুরের পর উত্তেজিত NCP সমর্থকরা পুলিশের একটি ভ্যান লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছোড়ে এবং পরে সেটিতে অগ্নিসংযোগ করে। একই সময়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (UNO) গাড়িতেও হামলা চালানো হয়, যাতে অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন।
সহিংসতার কারণে দ্রুতই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী — পুলিশ, র্যাব, বিজিবি এবং সেনাবাহিনী — মোতায়েন করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য জেলা প্রশাসন গোপালগঞ্জ শহর ও আশপাশের এলাকায় দফা ১৪৪ ধারা জারি করে।
এর মধ্যেই NCP-এর শীর্ষ নেতারা দ্রুত এলাকা ত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন। অভিযোগ উঠেছে, সেনাবাহিনীর একটি ট্যাংক এবং সশস্ত্র প্রটেকশনের মাধ্যমে হাসনাত আবদুল্লাহ ও নাহিদসহ অন্যান্য নেতারা মিছিলের স্থান থেকে সরে পড়েন। স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, “এত বড় মিছিল, এত বড় বক্তৃতা — অথচ শেষমেষ ট্যাংকে চড়ে পালিয়ে যেতে হলো! এটা নৈতিক পরাজয়।”
সামাজিক মাধ্যমে ইতিমধ্যে ‘ট্যাংক পালানো’ দৃশ্য ভাইরাল হয়ে গেছে। অনেকে এটিকে রাজনৈতিক কৌশল বললেও, অনেকে বলছেন, NCP মাঠের লড়াইয়ে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে।
অন্যদিকে, প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সহিংসতা ও হামলায় জড়িতদের চিহ্নিত করা হচ্ছে এবং দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পুলিশের এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, “সার্বিক পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে, হামলার সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের কোনো ছাড় নেই।”এই ঘটনার পর গোপালগঞ্জের জনগণের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকে ক্ষুব্ধ, অনেকে আতঙ্কিত। দোকানপাট আংশিকভাবে বন্ধ রয়েছে, শহর জুড়ে টহল দিচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।



