প্রবাসী ব্লগার ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক হিসেবে পরিচিত পিনাকী ভট্টাচার্য সাম্প্রতিক সময়ে আবারও আলোচনায় এসেছেন, কুমিল্লার মুরাদনগরে হিন্দু নারী ধর্ষণ মামলার আসামি ফজর আলীর রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে বিভ্রান্তিমূলক মন্তব্য করে। যদিও পুলিশের তথ্যে স্পষ্ট বলা হয়েছে, ফজর আলী স্থানীয় বিএনপি নেতা, তবুও পিনাকী দাবি করেছেন যে তিনি ৫ আগস্টের আগে আওয়ামী লীগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
তথ্য যাচাই করে দেখা গেছে, এই বক্তব্যের কোনো প্রমাণ নেই। বরং পিনাকীর অতীত কর্মকাণ্ড ঘেটে দেখা যায়, তিনি বারবার আওয়ামী লীগকে নিয়ে গুজব ছড়িয়েছেন। অনেকের মতে, আওয়ামী লীগের প্রতি তার ব্যক্তিগত রাগ ও বিদ্বেষের কারণেই তিনি এমন বিভ্রান্তিমূলক তথ্য ছড়ান।
পিনাকীর ফেসবুক পোস্ট ও ভিডিওগুলোতে প্রায়ই দেখা যায়, তিনি সরাসরি হিংসাত্মক ভাষা ব্যবহার করেন এবং নানা গালাগালি দেন। তার ভাষার আক্রমণাত্মক ধরন ও রাজনৈতিক বিদ্বেষের কারণে অনেকেই তাকে মানসিকভাবে অসুস্থ বলেও মনে করেন। একাধিক বিশ্লেষক উল্লেখ করেছেন, এ ধরনের চরমপন্থী উস্কানিমূলক বক্তব্য সমাজে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে এবং রাজনৈতিক সহিংসতা উসকে দিতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পিনাকী দীর্ঘদিন ধরেই গুজবের মাধ্যমে জনমত প্রভাবিত করার চেষ্টা করছেন। তার বক্তব্যে সত্যতা যাচাই করা হয় না, বরং আবেগের বশে মিথ্যা প্রচার করাই তার অন্যতম কৌশল। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে এমন কর্মকাণ্ড দেশের স্থিতিশীলতা ও সামাজিক শান্তি বিনষ্ট করতে পারে।
সাধারণ জনগণ ও সচেতন মহল বারবার পিনাকীর বিরুদ্ধে সামাজিক মাধ্যমে প্রতিবাদ জানিয়েছে। কেউ কেউ তার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ও ইউটিউব চ্যানেলের ওপর নজরদারি ও কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
সবশেষে, বিশেষজ্ঞরা আহ্বান জানিয়েছেন, কোনো ধরনের রাজনৈতিক বক্তব্য বা বিতর্কিত মন্তব্য শেয়ার বা বিশ্বাস করার আগে তা নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যম থেকে যাচাই করার। বিভ্রান্তি, গুজব এবং মিথ্যা তথ্য ছড়ানো প্রতিরোধে সামাজিকভাবে সবার দায়িত্বশীল ভূমিকা নেওয়া প্রয়োজন।



